পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, হানাহানী বেড়েই চলছে
॥ মোঃ আলমগীর হোসেন, লংগদু ॥
কোন বিশেষ সম্প্রদায় সকল ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা উপভোগ করবে আর অন্যরা বৈষম্যের শিকার হবে তা হবে না। বাংলাদেশের মহান সংবিধানের ৪টি মূলনীতি-সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ এর পরিপন্থী। সোমবার (২৪মার্চ) লংগদু উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে উপজেলা ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি’র) লংগদু উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন।
সভাপতি মোঃ সুমন তালুকদার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, বিষেশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি সাবেক লংগদু উপজেলা সভাপতি মোঃ দেলয়ার হোসেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির চট্টগ্রাম মহানগরের দপ্তর সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান কাদের, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ন সম্পাদক মো: মহিবুল্লাহ (নুহাস), জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর সভাপতি আমিনুর রশিদ, লংগদু উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ, ইসলামী ছাত্র শিবির লংগদু উপজেলা সভাপতি নবী হোসেন, পিসিসিপি উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ খালিদ রেজা প্রমুখ।
এসময় নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনায় সকল নাগরিকের সমঅধিকার রক্ষা, বৈষম্য নিরসন ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতের অধিকার ব্যাহত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে এসব বৈষম্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, অনাস্থা, হানাহানী দিনদিন বেড়েই চলেছে। সার্বিক বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সঠিক ভাবে কারা অনগ্রসর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বঞ্চিত, নিপীড়িত, প্রান্তিক, অনগ্রসর বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পিছনে রেখে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোন দিন সার্থক হবে না। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়তে বাংলাদেশের সকল প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান পিসিসিপি নেতৃবৃন্দরা।