শিরোনাম
রাঙ্গামাটির বরকলে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা নাকি অন্য কোন রহস্যরাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় আউশ প্রণোদনা প্যাকেজ বিতরণ ও আম চাষিদের প্রশিক্ষণখাগড়াছড়িতে দুই লাখ টাকা জরিমানা সহ ইটভাটা গুড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমান আদালতরাঙ্গামাটির লংগদুতে সেনা জোনের উদ্যোগে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনমাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করুন: পার্বত্য মন্ত্রীঅবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

বান্দরবানে ৭বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের কাজ সম্পন্ন না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন

২১

॥ লামা উপজেলা প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লকের কাজ সম্পন্ন না করেই কোটি টাকার অধিক বিল সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দেব এর যোগসাজসে ঠিকাদার মেহেদী চৌধুরী এই সরকারি অর্থ উত্তোলন করে নেন।

জানা যায়, লামার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ওয়াশব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের দরপত্র আহবানে উপজেলার ৭টি বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ কাজটি পায় ঠিকাদার মেহেদী চৌধুরী। ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা মূল্যের কার্যাদেশ মোতাবেক ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু ২০২৫ সালের চলতি মার্চ মাসে এসেও ঠিকাদার নির্মাণ কাজ শেষ করেনি। বন্ধ রেখেছেন বিদ্যালয় গুলোর ওয়াশব্লক গুলোর নির্মাণ কাজ। এদিকে নির্মাণ কাজ ৪০ শতাংশ শেষ না হতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী’র যোগসাজসে ঠিকাদার কোটি টাকার অধিক বিল ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে নেন। পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে।

ওয়াশব্লক নির্মাণাধীন বিদ্যালয়গুলো হলো- ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩নং রিপুজি পাড়া, পাগলির আগা, ডান ও বাম হাতির ছড়া, জোড়মনি পাড়া, হেডম্যান পাড়া, সাপের ঘাটা ও ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভুক্তভোগী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়গুলোর ওয়াশব্লক নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শেষ হবে বা আদৌ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে কিনা, এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। নির্মাণ কাজ সম্পন্নের দাবী জানিয়ে ডান ও বাম হাতিরছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আহমদ, পাগলির আগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম হেলালী বলেন, ওয়াশব্লক নির্মাণ শেষ না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারদের আর দেখা যায়নি। ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস।

ঠিকাদার মেহেদী চৌধুরী জানায়, বিদ্যালয়গুলোর ওয়াশব্লক নির্মাণ কাজ কেন বন্ধ, তা জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করেন। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর আপনাকে এ বিষয়ে জানাবেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের লামা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বিল প্রদান করা হয়েছে। যথা সময়ে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না করায়, ঠিকাদারকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দেব এর মুঠোফোনে অনেকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।