শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গায় বন্যায় ৫০ কোটি অধিক টাকার ক্ষতি

১৯

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার সবুজ পাহাড়ে বসবাসরত জনপদের মানুষজন। ক্রমাগত বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যারকবলে পড়ে এ জনপদের অনেকেই আজ সর্বশান্ত।

এই দুর্যোগে অনেকে গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি ফেলে রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি ও শবজি ক্ষেত। পাহাড় ধসে নষ্ট হয়েছে সড়ক পথ, সেতু কালভার্ট পাকা রাস্তাও বাদ যায় নি তাতে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে, প্রতিটি কৃষকের স্বপ্নের মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে পশুপাখির দানাদার খাদ্য-ঘাস, খড়। এ অবস্থায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ ক্ষতি পুষিয়ে আবার নতুন করে শুরু করা হবে সেটা সময়ের ব্যাপার।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় তাইন্দং ভগবান টিলা বিজিবি ক্যাম্প রোড, মাটিরাঙ্গা জিসি গোমতী রোড, খেদাছড়া বাজার রোড -বটতলী সড়ক, তবলছড়ি ডাকবাংলা পুরান বাজার পুরান বাজার বিওপি রোড, রামশিরা চৌদ্দগ্রাম পাড়া রোড, বড়নাল ডাকবাংলা যামিনীপাড়া রোড, বড়নাল ইউনিয়ন তবলছড়ি পুরান বাজার বিওপি কদমতলী সড়ক মেরামত ও পুনঃ নির্মাণ সম্ভাব্য ২২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহাজাহান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষিতে উপজেলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। আউশ ১৬লাখ ২৭ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। আমনের ক্ষতি হয় ৫ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গ্রীষ্মকালীন শবজির ক্ষতি হয় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সর্বমোট ৭ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। মোট ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৩ হাজার সাতশত কৃষক।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের বন্যায় গোমতী পশ্চিম গড়গড়িয়া এলাকার আবুল কাশেমের একটি পোল্ট্রি ফার্মের ৩ হাজার মোরগ মারা যায়। একই সাথে ওই ফার্মে ১ মাসের মুরগির খাবার নষ্ট হয়। একই এলাকার বেলাল হোসেন নামে ২ দিনের বয়সী ২৬০০ মুরগীর বাচ্চা মারা যায়। তাছাড়া অত্র উপজেলায় ১১ একর কাঁচা ঘাসের প্লট নষ্ট হয়ে যায়। মোট ক্ষতি নিরুপন করা হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় ৫.৬৬ কিলোমিটার সলিং রাস্তা ৩০.৮৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার ক্ষতি হয়। বেলছড়ি ও পৌর এলাকায় ২ টা ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাছাড়া ৮৫ টি পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয় আধাপাকা ১১ টি ঘর। উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। ১৫ টি মসজিদ, ২ টি আংশিক ব্রিজ, ৫টি কালভার্ট, ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ টি মাদ্রাসা, ২০ টি অগভীর নলকূপ, হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা ৩৮ টি। প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সৃষ্ট বন্যায় মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন হয়েছে। এতে ভেসে গেছে মাছের পুকুর। নি:স্ব হয়েছেন অনেক মৎস্যজীবী, উপজেলার ৫৭০ টি বিভিন্ন পুকুর, দিঘি ও ঘের, লেক প্লাবিত হয়ে ১৩৭৬.৬০ ১৩কোটি ৭৬ লাখ লাখ টাকার সম্ভব্য ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বমোট ক্ষতি হয় ৪৬ কোটি ১২ লাখ টাকা অন্যান্য ক্ষতিসহ সম্ভাব্য মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী টক্রবর্র্তী জানান, প্রতিটা দপ্তর সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতি নিরুপনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে বরাদ্দ পেলে সুষম বন্টন করা হবে।