শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

লামায় স্বামীকে খুন করতে স্ত্রী ভাড়া করলেন খুনি পরে অডিও ভাইরাল

৩৬

॥ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ॥
খুনি-একেবারে খুন করে ফেলবো, নাকি হাত পা ভেঙ্গে দিব ? হাছিনা-আগে হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে, তারপর বাপ-ভাই বলে পা ধরে যদি ক্ষমা চায় এবং কাউকে কিছু বলবেনা কথা দেয় তাহলে ছেড়ে দিবে। না হয় একেবারে শেষ করে ফেরবে। খুনি-কাজের জন্য (খুনের বিষয়ে) টাকা কত দিয়েছো ? মাবুরে কত দিয়েছো আর জসিমকে কত টাকা দিয়েছো ? হাছিনা-মাবুকে ১৫ হাজার জসিমকে ১০ হাজার টাকা। খুনি- জসিম আমাকে ৪ হাজার টাকা দিয়েছে। কাজ হলে আর টাকা দিবে ? হাছিনা-আর দিবনা, খুন করে ওর (সামশু আলমের) মোটর সাইকেল নিয়ে যাবে। খুনি- না আমরা গাড়ি নিবনা। হাছিনা-গাড়ি না নিলে মানুষ তো বুঝবে আমি খুন করিয়েছি। গাড়ি নিয়ে গেলে সবাই বুঝবে মোটর সাইকেলের জন্য খুন করা হয়েছে। আমাকে কেউ সন্দেহ করবেনা।

এ ছিল নিজের স্বামী মোঃ সামশু আলম (৩৫) কে খুন করার জন্য খুনির সাথে স্ত্রী হাছিনা আক্তার (৩৩) এর ফোনালাপের কথোপকথন। এইরকম লোমহর্ষক কথাবার্তা নিয়ে ৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। যা এখন বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভাইরাল। উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সালাম মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা আব্দু সালামের ছেলে সামশু আলম কে পারিবারিক কলহের জের ধরে খুন করতে তার স্ত্রী হাছিনা আক্তার বাঁশখালী এলাকার জনৈক খুনির সাথে চুক্তি করছিল। হাছিনা আক্তার একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হাবিবুর রহমান পাড়ার আব্দুল মালেক ও রওশন আরা বেগমের মেয়ে। সামশু আলম ও হাছিনা আক্তারের সংসারে ১ মেয়ে ও ৩ ছেলে রয়েছে (সেলিনা আক্তার (১৫), তামজিদুল হাসান (১২), এমরান হোসেন (৭) ও শওকত হোসেন (৩০)। ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ হয়। সম্পর্কের অবনতি হলে কিছুদিন যাবৎ হাছিনা আক্তার তার ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। সামশু আলম পেশায় একজন খামারী ও বয়লার মুরগীর ব্যবসায়ী।

সামশু আলম জানান, তাকে (হাছিনা) বিবাহ করার পর থেকে কখনো শান্তিতে ছিলামনা। ৪ জন সন্তানের দিকে তাকিয়ে নিরবে সংসার করেছি। আমার সংসারে কোন অভাব নেই। পরকীয়ার বাঁধা দেয়ায় এই অশান্তি। সে আমাকে কয়েকবার মেরেছে। গত ৪ জুন লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার নামে মামলা করেছে। ৯ জুন আমি আদালত থেকে জামিন নিই। বান্দরবান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে বলে জেনেছি। খুনের এই অডিওটি গত ২৮ মে ২০২৪ইং তারিখের। একজনের সহায়তায় টাকা-পয়সা দিয়ে এই অডিওটা আমি উদ্ধার করি। বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। নিরাপত্তার জন্য সোমবার (১০ জুন) আমি লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যাই। থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে একটি অভিযোগ লিখে জমা দিতে পরামর্শ দেয়।

এই বিষয়ে জানতে স্ত্রী হাছিনা আক্তারের দুইটি মুঠোফোন নাম্বারে কল দেয়া হয়। নাম্বার গুলো সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ফেসবুকে অডিও ভাইরাল হলে অনন্য মামুন নামে একজন বলেন ‘রেকর্ড শুনে মনে হচ্ছে লোক গুলো আগে থেকে এই ধরনের অপরাধ করে। তাই সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’ মোঃ বোরহান, পল্লব পাল, আবুল কালাম মজুমদার সহ অনেকে ‘তাদের উচিত বিচার হক, আইনে আওতায় আনা হোক’ এমন মন্তব্য করেন।

সরই ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হোছেন বলেন, তাদের পারিবারিক কলহ অনেকদিনের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপটি শুনে আমি নিজেও আতংকিত। সামশু আলমকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি। লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামীম শেখ বলেন, সামশু আলম থানায় আসলে তাকে অভিযোগ লিখে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।