৩য় ধাপসহ এ পর্যন্ত ১৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন হলো
বাঘাইছড়িতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
॥ বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও বরিশালের আগৈলঝাড়া, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মডেল মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইমাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। নিজস্ব অর্থায়নে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। বৃহস্পতিবার (১৬মার্চ) গণভবন থেকে বাঘাইছড়ি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিও উদ্বোধন করেন।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে ৫০টি ও চলতি বছরে ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি এবং আজ ৩য় ধাপে উদ্বোধন হওয়া ৫০ টি সহ মোট ১৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধন শেষে বাঘাইছড়ি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বৃষ কেতু চাকমা, অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা, পৌর মেয়র জমির হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, ভাইস চেয়ারম্যান সাগরিকা চাকমা, কাচালং কলেজ অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ দেওয়ান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলী হোসেন, দিলীপ কুমার দাশ, দানবীর চাকমা, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাগণ সহ বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর এবং স্থানীয় গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন প্রত্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করে বর্তমান সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকারি অর্থায়নে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। শুধু নামাজ আদায় নয়, এসব মসজিদ হবে গবেষণা ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের আলাদা ওজু এবং নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মরদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।