শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে ইদূঁরের উপদ্রবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

১২৩

॥ পুষ্প মোহন চাকমা, বিলাইছড়ি ॥

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নে ইঁদুরের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দেওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছে কৃষক ও উদ্যোক্তা পরিবার। উৎপাদিত কৃষি ফসলের চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উদ্যোক্তা পরিবার। ইঁদুরের অত্যাচারে এখন অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এবং ঘরে পর্যাপ্ত ফলন তুলতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন।

ফারুয়া সদরের এগুজ্যাছড়ি ও গোয়াইনছড়ি পাড়ার কৃষকরা জানান, অত্র ফারুয়া ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে আগাম রূপবান শিম, বাদাম এবং বিভিন্ন ফসলের চাষ চলমান রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ইঁদুরের উপদ্রব দেখাদিলে ফসলের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে গেছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে শতশত একর জমিতে এসব ফসল চাষে কৃষকরা লক্ষলক্ষ টাকা আয় করে থাকে। কিন্তু এ বছর ইঁদুরের ক্ষয়-ক্ষতিতে একেবারে সর্বনাশ অবস্থা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাদামচাষ এখনও পরিপক্ক না হওয়ায় ইঁদুরের যে তান্ডব চলছে তাতে বাদাম চাষীদের অবস্থা বেগতিক বলে জানান কৃষকরা। পাশাপাশি ক্ষেতে যথেষ্ট রোগবালাইও রয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে তক্তানলা এলাকার আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫), ভরত চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (৪২), উলুছড়ি পাড়ার বদা তঞ্চঙ্গ্যা (৫০) ও চাইন্দা পাড়ার নির্মল তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪)জানান, এক প্রজাতির লাল শিমের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিবছর আমরা এটির ব্যাপক চাষ করে থাকি এবং এতে আমরা অশানুরূপ ফলনও পাই। কিন্তু এবছর শিমটির ব্যাপক চাষ হলেও ইদূঁরের উৎপাত ও ক্ষয়-ক্ষতিতে কৃষকরা হতাশায় রয়েছেন। ইঁদুরের উৎপাতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসকে জানানো হয়েছে কিংবা যোগাযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়নি বলে জানান।

৩নং ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা’র সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফারুয়ার বেশির ভাগ মানুষ চলতি মৌসুমের বাদাম ও শিম চাষের উপর নির্ভরশীল। বছরের এ মৌসুমে এসব চাষই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস বলা যায়। কিন্তু এবছর হঠাৎ ইদূঁরের উৎপাত দেখা গেছে এবং এ কারণে কৃষকদের বাদাম ও শিমচাষে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি দেখা দিয়েছে। কিন্তু উপজেলা কৃষি বিভাগ ইদূঁর দমন বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে এমন দেখি নাই। আর বিষয়টা তারা জানে কিনা আমার জানা নাই। যেহেতু তারা এ বিষয়ে আমাকে অবগত কিংবা আলোচনা ও পরামর্শ করেনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহদাত হোসেনের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফারুয়া ইউনিয়নের প্রতিটি ব্লকে আমাদের স্টাফ নিযুক্ত রয়েছে। কৃষি বিভাগরে ইঁদুর নিধনের চলমান ব্যবস্থাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইঁদুরের প্রজনন ক্ষমতা বেশি। একটি ইদুঁর একবারে প্রায় ৮-১০ টি বাচ্চা দেয় ২১-২৮ দিন অন্তর তাদের প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। তাই ইঁদুর নিধন বা প্রতিরোধ করতে হলে জমি পরিস্কার রাখতে হবে এবং ইদূঁর মারার জন্য ঔষুধ ও ফাঁদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও ইদুঁর খেকো প্রাণি বিড়াল, সাপ, পেঁচা ও গুইসাপ জমিতে ছেড়ে দিতে পারলে উত্তম।